মহিলা এবং বিজ্ঞান

image_print

কুণাল চক্রবর্ত্তী

ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিকাল সায়েন্সেস, ব্যাঙ্গালোর

গতকাল NCBS-এ আমার এক সহকর্মী মহিলা বন্ধু মাহিতা-কে “আন্তর্জাতিক নারী দিবস”-এর আগাম শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বেশ বিপাকেই পড়ে গেছিলাম। মাহিতার উত্তরে বুঝতে পারলাম সত্যিই তো, এ কি আহাম্মকের মত কথা ! মহিলাদের জন্য কি এই একটাই দিন ? বছরের বাকি দিনগুলো তাহলে ঠিক কি ? মাহিতার সাথে কথা বলতে বলতেই মনের মধ্যে আলোড়ন শুরু হয়ে গেল। আচ্ছা আমরা যখন সমাজে মহিলাদের সমান অধিকারের দাবি করি তার মধ্যেই তো লুকিয়ে রয়েছে সমাজে নারী-পুরুষ বিভেদের চিত্রটা। ২০১৫-তে এসেও তাই এই কথাগুলো বলতে বসা।

অনেকেই বলতে পারেন মশাই এসব পুরনো কথা রাখুন, মহিলারা এখন অনেক সুযোগ পাচ্ছেন, এখন ওঁরা তো বেশ এগিয়ে চলেছেন। আমার পাল্টা প্রশ্ন, সত্যিই কি তাই ? একটু লক্ষ্য করে দেখুন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, রিসার্চ বা আরো উচ্চতম পদে মহিলাদের সম্পর্কের সংখ্যা নিদারুণ ভাবে ব্যাস্তানুপাতিক। বেশ তো বিশ্বাস না হলে আপনার কাজের জায়গাতেই সংখ্যাটা গুণে দেখুন না।

আমদের সমাজে বিশেষ করে ভারতীয় সমাজের নানান স্তরে মহিলাদের জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের সমস্যাগুলো আমাদের সকলের জানা আর সব জেনেও আমরা বেশির ভাগ সময়  চুপচাপ বসে থাকি। চরম  সত্যটা হল আজও আমরা তাঁদের বেশিরভাগকেই  ঘরের মধ্যে বেঁধে রেখে জগতের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি। “চাক্ দে ইন্ডিয়া” সিনেমার সেই দৃশ্যটা মনে পড়ে ? যেখানে প্রীতি নামের হকি খেলোয়াড়কে তার বয়ফ্রেন্ড বলছে যে এসব “গুলি-ডান্ডা” খেলে কি হবে ?!!!

এরকম সামাজিক, সাংসারিক বাধা আমাদের চোখের সামনে রোজ ঘটে ! এ ব্যাপারে আমরা মেনে নিতেও বেশ অভ্যস্ত ! বিজ্ঞানের জগতেও এর ব্যতিক্রম খুব কম ! কজন ভারতীয় মহিলা বিজ্ঞানীর নাম আপনি এক নিশ্বাসে বলতে পারবেন ?

যদিও বা কখনো দেখি মহিলারা শিক্ষাস্তরে বেশ কিছুটা এগিয়েছেন তখনই দেখি সাংসারিক জীবন বাধ সেধেছে আরও উচ্চতর শিক্ষায়। ভারতের মহিলা বিজ্ঞান সমাজে কজন মঙ্গলা নার্লিকার, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী-র মত সাংসারিক জীবনে তাঁদের স্বামীদের থেকে সহযোগিতা, প্রেরণা, সহকর্মীর মর্যাদা পেয়েছেন ? সংখ্যাটা যে বড্ড কম ! এইসব কথা পড়ে যেন আবার ভাবতে বসে যাবেন না। সমস্যাটা ভাবার নয়, সমাধানটা হল কাজটা করে দেখানোর। আমরা নিজেরাই সমস্যাটা মিটিয়ে  আমাদের সমাজাটাকে অনেক অনেক শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারি।

আমাদের “বিজ্ঞান”-ও তাই ঠিক করেছে ভারতের এবং বিশ্বের মহিলা বিজ্ঞানীদের জীবনের চিত্র গুলো তুলে ধরার। কেমনভাবে তাঁরা নিজেদের জীবনে সম্মুখীন বাধাগুলো পেরিয়ে বিজ্ঞানের কাজ করেছিলেন। জীবনী যে আমাদেরকে অনুপ্রেরণা দেয় তা প্রশ্নাতীত। এরকমই এক কারণে ইন্ডিয়ান একাডেমী অফ সায়েন্সেসের(Indian Academy of Science’s) উদ্যোগ Women in Science (WIS), আর এই ওয়েবসাইটে রয়েছে “Lilavati’s Daughters: The Women Scientists of India”, ভারতীয় মহিলা বিজ্ঞানীদের জীবনী সংগ্রহ।

আজকের এই “আন্তর্জাতিক নারী দিবসে”  আমাদের “বিজ্ঞান” নিতে চলেছে এক নতুন উদ্যোগ, আমাদের ওয়েবসাইটে চালু হচ্ছে সম্পূর্ণ একটা নতুন বিভাগ – “বিজ্ঞানে মহিলারা”।  বিভাগটি শুরু হবে বাংলায় “Lilavati’s Daughters:The Women Scientists of India”-এর নতুন সংস্করণের মাধ্যমে। আসুন সবাই মিলে একজোট হয়ে কাজ শুরু করে দিই।

[ Indian Academi of Sciences-এর অনুমতি পেলেই “Lilavati’s Daughters:The Women Scientists of India”-এর বাংলা অনুবাদ  প্রকাশিত হবে আমাদের ওয়েবসাইটে ]

ছবি : উপরের সারিতে বাঁদিক থেকে  যথাক্রমে মেরী সোফি জার্মেইন, রোসালিন্ড ফ্র্যান্কলিন, মাদাম কুরী, আদা ইয়োনাথ।

        নীচের সারিতে বাঁদিক থেকে যথাক্রমে এমি নয়থার, অসীমা চট্টোপাধ্যায়, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী, মঙ্গলা নার্লিকার।

image_print
(Visited 829 times, 1 visits today)

Tags: , ,