মস্তিষ্ক বিজ্ঞানীর মৃত্যু

Filed in Uncategorized by on December 17, 2014
image_print

অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়
ম্যাথওয়ার্কস (ম্যাসাচুসেটস)

যদি বলা হয় রক্ত সঞ্চালনের তারতম্য থেকে মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ বলে দেওয়া যায়, আশ্চর্য লাগবে কি ? গল্প নয়, সত্যি। কোন কাজের সাথে মস্তিষ্কের কোন জায়গাটা সক্রিয় হয়ে উঠছে, সেটা তক্ষুনি বলে দেওয়া যায় । পদ্ধতির নাম ফাংশানাল ম্যাগনেটিক রেসনান্স ইমেজিং বা fMRI । এই পদ্ধতির একজন পথিকৃত, জ্যাক বেলিভো, মারা গেলেন গত সপ্তাহে ।

সাল ১৯৯১। ম্যাগনেটিক রেসনান্স ইমেজিং-এর উপর একটা সম্মেলন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য তিরিশ পেরোনো এক বিজ্ঞানী বললেন তার নতুন কাজের কথা । তিনি দাবি করলেন, রক্ত চলাচল মেপে বলে দিতে পারেন একটা বাইরের বস্তু দেখে মস্তিষ্কের কোন জায়গাটা সক্রিয় হচ্ছে । কিভাবে মাপা হবে সেটারো একটা ফিকির বার করেছেন । রক্তের মধ্যে একটা বিশেষ ফেরমাগ্নেটিক এজেন্ট প্রবেশ করাতে পারলেই কাজ হয়ে যায়। এটা যে করা সম্ভব, সেটা দেখাতে কয়েকটা ছবি সঙ্গে করে এনেছিলেন তিনি। এই ছবিগুলি-ই হয়ত মস্তিষ্কের সক্রিয় স্থিতি-র প্রথম “লাইভ টেলেকাস্ট” ।

এটা এখন আর করা হয়না। রক্তে ফেরমাগ্নেটিক এজেন্ট ঢোকানো খানিক বিপজ্জনক আর অস্বস্তিকর-ও বটে। তবে বেলিভো যে পথ দেখিয়েছিলেন, তাতে অনেকদুর এগোনো গেছে । তার প্রস্তাবের আগে এটা ভাবা যেত না যে মস্তিষ্কের সক্রিয় স্থিতি-র ছবি এমন সরাসরি পাওয়া যাবে। এর আগে যেসব পদ্ধতি চালু ছিল, তাতে পর্যবেক্ষণের সময় মস্তিষ্কের একটা স্থির ছবি পাওয়া যেত । সেই মুহুর্তে মস্তিষ্কের কোন জায়গাটা সজাগ আছে, সেটা খুব সুক্ষভাবে বলা যেত না। বেলিভোর পদ্ধতিতে এই বাধা আর রইলো না । মস্তিষ্কের ক্রিয়ার সাথে বাইরের উদ্দীপকের সরাসরি যোগাযোগ বোঝা সম্ভব হলো।

জ্যাক বেলিভো আর নেই। তবে তার কল্যানে মানব মস্তিষ্কটাকে আর হয়ত ততটাও দুর্ভেদ্য মনে হয় না।

বিস্তারিত পড়ুন।

ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

image_print
(Visited 399 times, 1 visits today)