পদার্থবিদ্যার ইতিহাস


বিভাগ: সাক্ষাৎকার (May 18, 2018)

 

চায়ের কাপে তুফান, সঙ্গে এক প্লেট বিজ্ঞান। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স-এর অধ্যাপক ও প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ড: সৌমিত্র সেনগুপ্ত-র সাথে বিজ্ঞান টীম-এর কৌশিক দাস ও শ্রীনন্দা ঘোষ কিছুদিন আগে আড্ডায় বসেছিলো। আলোচনা হলো পদার্থবিদ্যার ইতিহাস নিয়ে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে যে পদার্থবিদ্যা শিখেছি, সেটা যে একদিনে কি একটা প্রজন্মের মধ্যে আসেনি, সেটা আরেকবার মনে পড়ে গেলো। দেখা যাক, পদার্থবিদ্যার শৈশব থেকে শুরু করে কোন কোন বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে আজকের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি আমরা।


পদার্থবিদ্যার জগতে ব্যক্তিগত ইতিহাস

পদার্থবিদ্যার ইতিহাস নিয়ে আলোচনার আগে আমরা ড: সৌমিত্র সেনগুপ্তকে ওনার পদার্থবিদ্যাতে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে এলো একটা ছোটোখাটো স্কুলে পড়ার সুবিধে, জর্জ গ্যামো-র ‘ফাউন্ডেশন্স এন্ড ফ্রন্টিয়ার্স অফ ফিজিক্স’ এবং সর্বোপরি এলো প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপকদের কথা যারা পরীক্ষায় কি আসবে, এর বাইরে যেকোনো প্রশ্নে অবাধ উৎসাহ দিতেন।…

পদার্থবিদ্যার আদিযুগ: গ্রীক দার্শনিকরা

ড: সেনগুপ্ত এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুললেন: সেই সময়কার মানুষ শুধু পর্যবেক্ষণের ভরসায় অনেক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, অন্তর্নিহিত কারণটা জানতেন না। তাদের পন্থাকে বিজ্ঞান বলা যায় কি? আর বিজ্ঞানের ও দর্শনের মধ্যে সীমারেখাটাই বা কোথায়? এর উত্তর দিতে গ্যালিলিও-র কথায় ফিরে যেতে হলো। এবং অবশ্যই তার আগে বলতে হলো টাইকো ব্রাহে-র কথা, যিনি প্রথম দর্শনের জমি ছেড়ে এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা করেছিলেন।…

প্রাচীন ভারতে বিজ্ঞানচর্চা কতদূর এগিয়েছিল

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এলো, ভারতে তো গ্রীকদের অনেক আগে থেকে সূর্যগ্রহণের মতো ঘটনার কথা গণনা করে বলা হয়েছিল। আমরা ইতিহাসটা গ্রীকদের দিয়েই শুরু করি কেন? এর উত্তরে প্রথমে এলো পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের কথা। কিন্তু, তার থেকেও গভীর প্রশ্ন হলো: প্রাচীন ভারতে যে সকল গণনা হয়েছে, তার সাথে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গণনার তফাৎ কি? উত্তর দিতে গিয়ে সৌমিত্রদা আধুনিক বিজ্ঞানের মূল দর্শনের কথা বললেন: প্রকৃতির বিবিধ আচরণের মধ্যে একটা ঐক্যের খোঁজ।…

নিউটনের সূত্র

পদার্থবিদ্যায় নিউটনের সবথেকে বড় অবদান কি: মাধ্যাকর্ষণ, গতিসূত্র, অপটিক্স, কোনটা? হয়তো অবদানটা আরো গভীরে। একটা ডিফারেনশিয়াল একুয়েশন সমাধান করে যে সময়ের সাথে স্থান পরিবর্তনের ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব, এটা নিউটনই প্রথম দেখিয়েছিলেন। তার হাত ধরেই ভবিষ্যতটা বিধাতার লেখন থেকে বিজ্ঞানের আওতায় এলো।…

নিউটনের সূত্রে লুকিয়ে থাকা ভবিষ্যতের তত্ত্ব

নিউটনের সূত্রগুলোকে খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যে কয়েকটা জিনিস তার মধ্যে ধরে নেওয়া হয়েছে। যেমন, একটা বিন্দু থেকে আরেকটাতে সবসময় একটা সরলরেখা আঁকা সম্ভব। কিংবা, একজন পর্যবেক্ষক স্থির অবস্থায় দুটো ঘটনার মধ্যে যে সময়ের ব্যবধান মাপছে, আরেকজন চলন্ত পর্যবেক্ষক-ও তাই মাপছে। এই ধরে নেওয়া জিনিসগুলোকেই পরীক্ষার আলোয় ফেলে নতুন তত্ত্বের জন্ম হলো। তাই এক অর্থে বলা যায়, নিউটনের সূত্রগুলোর ক্ষমতা এমনই যে ভবিষ্যতের তত্ত্বও তার মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে। এমনকি কোয়ান্টাম থিওরি-র সম্ভাবনা পর্যন্ত দেখা যায়।…

দ্বিতীয় পর্ব  

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

Tags: , ,