নিজে করো: শূন্যে ভাসমান চাকতি (শনির বলয়ের মডেল)


বিভাগ: ক্লাশরুম (October 23, 2017)

 

 


পিং পং বলের চারিদিকে বন বন করে ঘুরছে শূন্যে ভাসমান একটা চাকতি। শনির বলয়ের এই সহজ মডেলটা বানাতে শেখাচ্ছেন দেবাশীষ ধর


 

এটা করতে কি লাগবে

 

  1. টেবিল টেনিস বল
  2. কালির ড্রপার
  3. ডি. সি. মোটর (9V)
  4. ব্যাটারি (9V)
  5. সিন্থল বডি স্প্রে-র ঢাকনা
  6. রেড হিট স্প্রে-র ঢাকনা
  7. ডেটল হ্যান্ড ওয়াশ-এর ঢাকনা
  8. ডিওডোরেন্ট-এর বোতল
  9. জেল পেন-এর রিফিল
  10. পুশ বাটন সুইচ
  11. কিছু ইলেকট্রিকাল তার

 

 

সব জোগাড়যন্ত্রের ছবি একসাথে দেওয়া হলো। একটা কাগজের চাকতি-ও লাগবে সবশেষে। এই চাকতিটাই শুন্যে ভাসবে।

 

 

শেষে কি দাঁড়াবে

শনির বলয়ের একটা মডেল। টেবিল টেনিস বলটাকে মোটরের সাহায্যে ঘোরালে তার চারদিকে চাকতিটা ভাসতে থাকবে। খানিকটা এইরকম।

 

 

এর পিছনে কারণটা খানিকটা এইরকম। অবশ্যই নিচে দেওয়া কারণটা শনির বলয়ের ক্ষেত্রে খাটে না। অসংখ্য ছোট ছোট বরফকণা দিয়ে তৈরী সেই বলয় শনির মাধ্যাকর্ষণ বলে ঘুরে চলেছে। নিচের কারণটা মডেলটা কিভাবে কাজ করে, সেটা বোঝায়। পিং পং-এর মাধ্যাকর্ষণ বলের সেখানে কোনো ভূমিকা নেই।

 

বল-এর মেরু অঞ্চলে (pole) গোলকের পরিধি সবথেকে কম আর নিরক্ষরেখা অঞ্চলে (equator) সবথেকে বেশি। অথচ একই সময়ের মধ্যে দুটো অঞ্চলই একপাক খায়। তাই মেরুর ঘূর্ণন গতিবেগ নিরক্ষরেখার তুলনায় কম।

 

 

বার্নৌলি-র সূত্র অনুসারে বায়ু (বা অন্য কোনো তরল)-এর গতিবেগ বেড়ে গেলে তার চাপ কমে যায় আর গতিবেগ কম থাকলে চাপ বেড়ে যায়। বল আর তার আসেপাশের বাতাসের গতিবেগ যেহেতু মেরু অঞ্চলে কম, তাই বায়ুর চাপ বেশি। আর নিরক্ষরেখা অঞ্চলে যেহেতু গতিবেগ বেশি, তাই চাপ কম।

 

 

প্রকৃতির নিয়ম হলো ভারসাম্য রক্ষা করা। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটে না। মেরু অঞ্চল থেকে বাতাস ছুটে আসে নিরক্ষরেখা অঞ্চলে যাতে বায়ুচাপের তারতম্য কমে সমান হয়। যদি নিরক্ষরেখা অঞ্চলে কোনো হালকা বলয় (ring) রাখা যায়, তাহলে বলয়টি বায়ুর দুইপাশের চাপের প্রয়াসে অনায়াসে শূন্যে ভাসতে থাকবে।

 

 

বানানোর পদ্ধতি

নিচের ছবিতে বানানোর পদ্ধতিটি দেওয়া হলো। খেয়াল রাখতে হবে, বল-এর সাথে মোটর-এর যোগটা যেন অ্যাকশিয়ালি পারফেক্ট হয়। অর্থাৎ মোটরের অক্ষরেখা আর বলের অক্ষরেখা যেন এক হয়। নইলে বল জোরে ঘোরার সময় ভাইব্রেশন হবে।

 

 

মডেল তৈরীর ধাপগুলোকে এই ভিডিওতেও দেখতে পারেন। অবশ্য এখানে মালমশলাগুলো সামান্য আলাদা, যদিও মডেলটির পিছনে একই পদার্থবিদ্যার সূত্র কাজ করছে।

(প্রচ্ছদের ছবির সূত্র)

 

লেখক পরিচিতি: দেবাশীষ ধর মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্র কলেজ থেকে রসায়ন বিজ্ঞানে বি.এস.সি. করেছেন। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান-এর মডেল তৈরীর শখ। বর্তমানে দেবাশীষ দিঘা সায়েন্স সেন্টার-এ এডুকেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর পদে আছেন। দিঘা সায়েন্স সেন্টার ভারতীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মুসিয়ামস’-এর অধীনে একটি মুসিয়াম।

 

প্রশ্ন পাঠান এই লিঙ্কে ক্লিক করে।

‘বিজ্ঞান’-এ প্রকাশিত লেখার বাছাই সংকলন ‘বিজ্ঞান পত্রিকা’ ডাউনলোড করুন।

 

Facebook Comments
(Visited 283 times, 1 visits today)