বাংলার কীট-পতঙ্গ -গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য রবীন্দ্র পুরস্কার ১৯৭৫

image_print

ডানদিকের Common mormon প্রজাপতির অনুকরণ হয়েছে বাঁদিকের Common rose-এর মতো। স্ত্রী Common mormon যেটি অাসলে Common rose-এর মতো বিষাক্ত নয় কিন্তু অনুকরণের ফলে খাদকরা পার্থক্য বুঝতে না পেরে এদের এড়িয়ে চলে!

ছবি : Krushnamegh Kunte (left) and Khew Sin Khoon (right)

প্রজাপতির লুকোচুরি

পাখিরাই সাধারনত কীট-পতঙ্গের প্রধান শত্রু। পাখি এবং অন্যান্য শত্রুদের আক্রমণ এড়াবার জন্যে কীট-পতঙ্গ জাতীয় প্রাণীদের মধ্যে  অপেক্ষাকৃত উন্নত শ্রেণীর প্রাণী অপেক্ষা বহুল পরিমাণে অনুকরণপ্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু পাখি সাধারণত ফড়িং বা প্রজাপতিকে আক্রমণ করে না। বাদলা পোকা আকাশে ওড়া মাত্রই যেমন বিভিন্ন জাতীয় পাখি সেগুলিকে ধরে খাবার জন্যে আকাশ ছেয়ে ফেলে, ফড়িং ও প্রজাপতির বেলায় তার বিপরীত ঘটনাই পরিলক্ষিত হয়। ফড়িং ও প্রজাপতিরা পাখিদের আশে-পাশে নির্ভয়ে উড়ে বেড়ায়। ফড়িংদের পরস্পরের মধ্যে অবশ্য শত্রুতা যথেষ্ট; সুযোগ পেলে সবল দুর্বলকে আক্রমণ করে খেয়ে ফেলে। কিন্তু প্রজাপতিদের মধ্যে সেরূপ কোনও শত্রুতা নেই। কোনও কোনও জাতের প্রজাপতির মধ্যে অদ্ভুত অনুকরণপ্রিয়তা দেখতে পাওয়া যায়। অবশ্য প্রজাপতির স্বাভাবিক শত্রু যে একেবারেই নেই, তা নয়। টিকটিকি, গিরগিটি, কোনও কোনও জাতের মাকড়সা ও পিঁপড়ে সুযোগ পেলে এগুলিকে ধরে খেয়ে ফেলে। এতদ্ব্যতীত এদের অপরুপ সৌন্দর্য ও বর্ণবৈচিত্র্যে আকৃষ্ট হয়ে মানুষেরাও এদের যথেষ্ট শত্রুতা করে থাকে। বোধ হয় এই স্বাভাবিক শত্রুদের কবল থেকে আত্মরক্ষার নিমিত্ত কোন কোন জাতের প্রজাপতি ডানা মুড়ে গাছের পাতার অনুকরণ করে থাকে। কেউ কেউ বা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে শত্রুকে পশ্চাদ্ধাবন থেকে নিবৃত করে। আমাদের দেশীয় মথ জাতীয় এক প্রকার শ্বেত বর্ণের প্রজাপতি ঠিক পাখির বিষ্ঠার অনুকরণ করে থাকে। এই প্রজাপতিদের আকৃতি-প্রকৃতি অতি অদ্ভুত – দেখতে ঠিক পাতলা টিসু কাগজের মত। ডানার পৃষ্ঠদেশের দুই প্রান্তে দুটি কালো ফোঁটা আছে। মনে হয় যেন দুটি চোখ। এরা ডানা মেলে পাতার গায়ের সঙ্গে এমনভাবে লেগে থাকে যে, সুনির্দিষ্ট আকৃতি সত্ত্বেও বিশেষ মনোযোগ দিয়ে না দেখলে, পাতার উপর চুণের দাগের মতো মনে হয়। ক্রমবিবর্তনের ফলেই হয়তো প্রজাপতির এই প্রকার অদ্ভুত আকৃতি-প্রকৃতি অভিব্যক্ত হয়েছে। হয়তো বললাম এজন্যে যে পর্যবেক্ষণের ফলে দেখেছি – কোন কোন জাতের মাকড়সারা পিঁপড়ের হুবহু অনুকরণ করেও শত্রুর কবল থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে না। আশেপাশে বিভিন্ন জাতের মাকড়সা থাকা সত্ত্বেও কোনও কোনও কুমুরেপোকা, বেছে বেছে ঠিক একই রকমের বহুসংখ্যক পিঁপড়ে-মাকড়সা শিকার করে তাদের গর্তের মধ্যে রেখে দেয়। এ থেকেই সন্দেহ জন্মে, প্রজাপতির অনুকরণ-প্রিয়তাও সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক কিনা।

< আগের পাতা                                                                                                     পরের পাতা >

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সংকলন

image_print

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53