বাংলার কীট-পতঙ্গ -গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য রবীন্দ্র পুরস্কার ১৯৭৫

image_print

ছবি : MAIWA

মথ রেশম কীট

কীট-পতঙ্গের মধ্যে প্রজাপতির মত সুদৃশ্য পতঙ্গ কদাচিৎ দেখতে পাওয়া যায়। শরীরের অনুপাতে প্রজাপতির ডানা অসম্ভব বড় হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রজাপতির ডানা বিভিন্ন রকমের আকৃতি বিশিষ্ট। ডানার মনোরম বর্ণবৈচিত্রে সহজেই এদের প্রতি দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় । পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট-বড় বিভিন্ন জাতীয় অসংখ্য রকমারি প্রজাপতি দেখা যায় । দিবাচর ও নিশাচর হিসাবে প্রজাপতিকে মোটামুটি দু-ভাগে ভাগ করা যায় । সাধারণত দিবাচর প্রজাপতিই আমাদের বেশি নজরে পড়ে। উজ্জ্বল দিবালোকে এরা ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় ।  দিনের আলো নিষ্প্রভ হবার সঙ্গে সঙ্গেই তারা লতাপাতা বা ঝোপঝাড়ের মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে নিশ্চলভাবে অবস্থান করে । নিশাচর প্রজাপতিরা কিন্তু সারাদিন আনাচে-কানাচে চুপ করে বসে থাকবার পর রাতের অন্ধকারে আহারান্বেষণে বহির্গত হয় । এদের ডানা গুলি দিবাচর প্রজাপতির মত হালকা নয় এবং ডানার বর্ণবৈচিত্রও পৃথক রকমের। বিশ্রাম করবার সময় দিবাচর প্রজাপতিরা পিঠের উপর দিকে ডানা মুড়ে বসে; কিন্তু নিশাচর প্রজাপতিরা ডানা প্রসারিত করেই বিশ্রাম করে। তাছাড়া এদের মস্তকের শুঁড় দুটি কতকটা পালকের আকৃতিবিশিষ্ট; কিন্তু দিবাচর প্রজাপতির শুঁড় দুটি মসৃণ এবং প্রান্তভাগ বর্তুলাকৃতির । নিশাচর প্রজাপতিরা মথ নামে পরিচিত। এদের বাচ্চাগুলিই রেশম-সূত্র প্রস্তুত করে থাকে।

যৌন-মিলনের পর স্ত্রী-প্রজাপতি গাছের পাতার উপর খানিকটা স্থান জুড়ে পর পর ডিম পেড়ে যায়। ডিম গুলি প্রায় গোলাকার; কোনো কোনো মথ ও প্রজাপতির ডিমের গায়ে ম্যাগ্নিফয়িং গ্লাসের সাহায্যে সুদৃশ্য কারুকার্য্য দৃষ্টিগোচর হয় । অধিকাংশ প্রজাপতিই ঘনসন্নিবিষ্ট ভাবে ডিম গুলি সাজিয়ে রাখে । আবার কেউ কেউ পৃথক পৃথক পাতার উপর এক-একটি করে ডিম পাড়ে। অল্প কয়েকদিন পরেই ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। অধিকাংশ প্রজাপতির বাচ্চার গায়েই বিষাক্ত শোঁয়া থাকে। আবার অনেকের শরীর মসৃণ। এই বাচ্চাগুলিই ক্যাটারপিলার বা শোঁয়াপোকা নামে পরিচিত। ডিম থেকে বাইরে এসেই বাচ্চাগুলি পাতার সবুজাংশ কুরে কুরে খেতে শুরু করে। খাওয়া হলো বাচ্চাগুলির প্রধান কাজ। তিন-চারদিন অনবরত আহারকার্য চালাবার পর কিছুকাল নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকেই প্রথমবার খোলস পরিত্যাগ করে। তার কিছুকাল বাদে আবার খাওয়া শুরু করে। এইরূপে সাধারণত চারবার খোলস বদলাবার পর পরিণত অবস্থায় উপনীত হয় । পরিণত অবস্থায় শোঁয়াপোকা আড়াই ইঞ্চি, তিন ইঞ্চি বা ততোধিক লম্বা হয়ে থাকে। এই অবস্থায় উপনীত হলেই শোঁয়াপোকা খাওয়া বন্ধ করে লতাপাতার কোনো সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে সুতার সাহায্যে একটা শক্ত বোঁটা প্রস্তুত করে এবং সেই বোঁটা থেকে শরীরটাকে বঁড়শীর মতো বাঁকা করে ঝুলতে থাকে। নিশ্চলভাবে এই অবস্থায় কয়েক ঘন্টা ঝুলে থাকবার পর তার পিঠের দিকের চামড়া লম্বালম্বিভাবে খানিকটা ফেটে  যায় । ভিতর থেকে লালচে আভাযুক্ত একটা লম্বাটে পদার্থ তখন মোচড় খেতে বেরিয়ে আসে।

   <আগের পাতা                                                                                                      পরের পাতা>

গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য সংকলন

image_print

Pages: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53